ঢাকা, ২৬ মে, ২০১৯ || ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
১৩৯

অ্যারাভেলি পর্বতে ঘেরা ভ্রাতৃত্ব

ইশতিয়াক হুসাইন

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০১৮


আজমীর, (রাজস্থান) ভারত থেকে: পাশের বাড়ির গনেশকে মামা বলে ডাকেন মো: মোবারক। গনেশ ছাড়াও অসিত, বরুণ, গৌরাঙ্গসহ হিন্দু ধর্মালম্বী বহু বন্ধু রয়েছে তার। হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক অত্যন্ত উঞ্চ অ্যারাভেলি পর্বতে ঘেরা রাজস্থানের আজমীরে। অন্তত মোবারকের সঙ্গে কথায় তেমনটি বোঝা যায়। 

আজমীরের শহরতলীর বাসিন্দা মোবারকের স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। অটোরিক্সা চালক মোবারকের বাবা-দাদা সবাই এই আজমীরের বাসিন্দা। এখানে ধর্মে ধর্মে কোনো বিদ্বেষ তার চোখে পড়েনি। মোবারকের কথার সত্যতা মেলে মো: নাদিমের কথাতেও। নাদিম আজমীর শরীফ দরগাহ সড়কের একজন কাপড় ব্যবসায়ী। ভারতের উত্তর প্রদেশের রায়বেলি তার বাড়ি। তবে ব্যবসার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আজমীরে বসবাস করছেন। নাদিমের কাছে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করতেই যেন কিছুটা লজ্জা পেলেন। বললেন, কি সব বলছেন, এখানে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কে কোনো তিক্ততা নেই, সংঘাত কিংবা বিদ্বেষ বহু দূরের কথা। 

আজমীরের আরেক ব্যবসায়ী সেলিমও তার কথায় সায় দিয়ে বললেন, আমরা হিন্দু-মুসলমান আলাদাভাবে চিন্তা করি না। এক দেশের মানুষ হিসেবেই ছোট বেলা থেকেই বেড়ে উঠেছি। কে হিন্দু, কে মুসলিম তা চিন্তা করি নাই কখনো।  

সেলিম বললেন, ভালো করে ঘুরে দেখেন আজমীর শরীফ দরগায় মুসলমান ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের লোকেরা আসেন। পর্যটকেরা এতবড় একজন আউলিয়ার মাজার শরীফ দেখে সন্তুষ্টি নিয়ে বাড়িতে ফিরে যান। 

আজমীরের হোটেল রিগালের কর্মী কমল দে’র কাছে একই প্রশ্ন করা হয়েছিল। হিন্দু ধর্মাবলম্বী হিসেবে তার কাছে ধর্মের কারণে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। 

আসলেই প্রখ্যাত ধর্ম প্রচারক হযরত মইনুদ্দিন চিশতী (রা:) এর স্মৃতি বিজড়িত আজমীরে হিন্দু-মুসলিম বছরের পর বছর ধরে সম্প্রীতি বজায় রেখে সুখে-শান্তিতে পাশাপাশি বসবাস করছে। একে অপরের বিপদেও ছুটে আসছেন। তাইতো অ্যারাভেলি পর্বত ঘেরা এই পবিত্র শহরে গড়ে উঠেছে হিন্দু-মুসলমানের ব্যতিক্রমী ভৃাতৃত্ব।   

গ্রীষ্মমৌসুমে উঞ্চ এলাকা হিসেবে পরিচিত আজমীরের গড় তাপমাত্রা থাকে ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বর্ষা মৌসুমে নিয়মিতই বৃষ্টি হয়্। আবার শীত মৌসুমে তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রীতে নেমে আসে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে নিয়মিতই বৃষ্টি হয়। 

শহরের মধ্যে যোগাযোগের বাহন হিসেবে বাস, ট্যাক্সি ও রিকশা ব্যবহৃত হয়। সেই সঙ্গে পর্যটন শহর আজমীরে পর্যটকদের বাড়তি আনন্দের জন্য রয়েছে ঘোড়ার গাড়ি ও উটের বাহন। পর্যটকরা মরুভূমির জন্য বিখ্যাত রাজস্থানে এসে উটের বাহন কিংবা উটের পিঠে চড়বেন না তা কি করে হয়। 

এছাড়া ভারতে যেকোনো প্রদেশের সঙ্গে রেল ও সড়কপথে এই শহরের সঙ্গে চমৎতার যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। 

আজমীরে মাজার শরীফ জিয়ারত ছাড়াও এখানে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় বিভিন্ন স্থান রয়েছে। উল্লেখযোগ্য স্থানের মধ্যে আনা সাগর, ফয় সাগর, তারাগড় ফোর্ট, পুস্কার, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ব্রাক্ষ্ম্য মন্দির ও মরুভূমিতে উঠের পিঠে সওয়ার সুযোগ তো রয়েছেই।