ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১১:২৮:২৩ || ১ কার্তিক ১৪২৬
Advertisement
৯০৫

খুঁড়িয়ে চলছে ইউনাইটেড এয়ার

এভিয়েশন করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫  


ঢাকা: খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেড।পেশাদারিত্বের অভাব ও অব্যবস্থাপনার কারণে এয়ারলাইন্সটি চলছে ধুঁকে ধুঁকে। এ অবস্থায় আবারো এয়ারলাইন্সটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এই খাত সংশ্লিষ্টরা। 

একের পর এক নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু, আরেকদিকে এসব রুট বন্ধ হয়ে যাওয়া-এভাবেই চলছে এদের কার্যক্রম। এয়ারলাইন্সটির বহরের ১১টি উড়োজাহাজের দু’টি বাদে সবগুলোই এখন অচল। লক্কর-ঝক্কর উড়োজাহাজ বহরের একটি উড্ডয়ন উপযোগী হয় তো আরো তিনটি অচল হয়। উড়োজাহাজের ভেতরের এসি কাজ করে না, বিকট শব্দ হয়। বিগত কয়েকমাস ধরেই এ ধরনের উড়োজাহাজ দিয়ে কোনোমতে চলছে এয়ারলাইন্সটি।   

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বহরে রয়েছে একটি ড্যাশ ৮-১০০, তিনটি এটিআর-৭২, পাঁচটি এমডি-৮৩ এবং দু’টি এয়ারবাস-৩১০ সহ মোট ১১টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে একটি এয়ারবাস ও একটি এটিআর-৭২ সচল রয়েছে। এটিআর উড়োজাহাজটির ফ্লাইং আওয়ার প্রায় শেষের পথে। মাত্র কয়েক ঘণ্টা রয়েছে এর ফ্লাইং আওয়ার। এ অবস্থায় এটি দিয়ে দিনে মাত্র একটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে তারা। একটি এটিআর-৭২ কক্সবাজারে দুর্ঘটনার পর সেখানেই পড়ে রয়েছে। পাঁচটি এমডি-৮৩ এর তিনটি অনেকদিন ধরেই অচল ছিল। এর সঙ্গে অচল হয় আরো দুটি এমডি-৮৩। দুটি এয়ারবাস-৩১০ এর একটি যন্ত্রাংশ দিয়ে আরেকটি কোনো রকমে সচল রাখা হচ্ছে।   

ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরীর কর্মকাণ্ডের কারণেই গেল বছরের সেপ্টেম্বরে বন্ধ হয়ে যায় ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। 

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এয়ারলাইন্সটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সবকিছু এককভাবে চালিয়েও সংস্থাটির উন্নয়ন করতে পারেননি তিনি। বরং তার একক সিদ্ধান্তের ফলে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের দেনার পরিমাণ ২০০ কোটি টাকার ওপরে।  

গেল সেপ্টেম্বরে দুইদিনের ফ্লাইট বন্ধে ইউনাইটেডের যে ক্ষতি হয়েছে তাও কম নয়। ওই সময় একজন যাত্রী সঠিক সময়ে বিদেশে যেতে না পেরে ইউনাইডেট এয়ারওয়েজের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা করেছিলেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গেল বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-মদিনা সরাসরি ফ্লাইট শুরু করে তারা। এর অল্প দিন পরেই তা বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে অতীতে ঢাকা-লন্ডন, ঢাকা-সিঙ্গাপুর, ঢাকা-ব্যাংকক, ঢাকা-কাঠমান্ডু, ঢাকা-কলকাতা, ঢাকা-দুবাইসহ বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট চালু হয়েছে, আবার তা বন্ধও হয়েছে।     

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বাংলাদেশের পুঁজি বাজারে একমাত্র বিমান সংস্থা যা বর্তমানে ঢাকা থেকে আন্তর্জাতিক রুট জেদ্দা, মাস্কাট, দুবাই, দোহা, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, কাঠমান্ডু ও কলকাতায় ফ্লাইট পরিচালনা করছে বলে সবখানে উল্লেখ করা হচ্ছে। বাস্তবে এই মুহূর্তে জেদ্দা, মাস্কাট ও কুয়ালালামপুরে সপ্তাহে একটি বা দুটি ফ্লাইট চালিয়ে কোনোমতে আন্তর্জাতিক রুট চালু রেখেছে। অভ্যন্তরীণ রুটে এমনও দিন গেছে শুধু একটি মাত্র রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে।  

এখানেই শেষ হয়। পুঁজিবাজারে নিজেদের শেয়ারের দাম বাড়াতে তারা খুব শিগগিরই ইয়াঙ্গুন, করাচি, রিয়াদ, দাম্মাম, চিয়াংমাই ফ্লাইট শুরু করার ঘোষণা দিয়ে আসছে। 

বিমান চলাচল খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বাংলানিউজকে বলেন, শুধু শেয়ার বাজারে শেয়ারের দাম বাড়ানোর জন্য তারা বিভিন্ন অপকৌশল হাতে নিয়েছে। তাদের এই কূটকৌশলের কারণে বিমান চলাচল খাতে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বহু দুর্নাম বয়ে এনেছে। যার রেশ এখনো কাটেনি। 

২০০৭ সালের ১০ জুলাই ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ৩৭ আসন বিশিষ্ট ড্যাশ ৮-১০০ উড়োজাহাজ দিয়ে ঢাকা থেকে সিলেটে উদ্বোধনী ফ্লাইট পরিচালনা করে।  

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বক্তব্য
এয়ারওয়েজের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম-পিআর অ্যান্ড মার্কেটিং সাপোর্ট) কামরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, দু’একদিনের মধ্যে একটি এমডি-৮৩ বহরে যুক্ত হবে। মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এয়ারওয়েজের বর্তমান সমস্যা কেটে যাবে। এ সময়ের মধ্যেই অচল ৫টি উড়োজাহাজ সচল হবে। এসব উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করলে বন্ধ হওয়া রুটগুলো একে একে চালু হবে।     

বাংলাদেশ সময়: ১০৫০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৫

 


এই বিভাগের আরো খবর