ঢাকা, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৭:৪০:২৫ || ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
Advertisement
৪০৪

ঝা চকচকে পরিপাটি শহর ‘গান্ধীনগর’

ইশতিয়াক হুসাইন

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০১৮


গান্ধীনগর (গুজরাট), ভারত থেকে: চিলোদা মোড়ে বাস থেকে নেমে বোঝার উপায় ছিল না ভেতরে কি অপেক্ষা করছে। এই মোড় থেকে কয়েক কিলোমিটার ভেতরে গেলেই গুজরাটের রাজধানী গান্ধীনগর।   

এখান থেকে অটোরিক্সা নিয়ে ভেতরে যেতেই চোখে স্থির হয়ে গেল। ঝা চকচকে সড়ক, একেক দিকে তিন লেন করে ৬ লেনের সড়ক। বিশাল রাস্তা। বড় ফুটপাথ, তার পাশ দিয়ে বিশাল সবুজ গাছে সারি। অথচ যানবাহনের সংখ্যা খুবই কম। সড়কের কোথাও ময়লা আবর্জনা নেই। সড়ক বিভাজনে অসংখ্য গোলাপফুল গাছ। গোলাপ গোলাপে ছেয়ে গেছে সড়ক বিভাজন।  

গোলাপ ছাড়াও রয়েছে চম্পা ফুল, কোথাও মিললো গুজরাটের জাতীয় ফুল মেরিগোল্ড। গোলাপি-হলুদ রংয়ের ফুলে সড়ক সেজেছে ভিন্ন সাজে। যতই এগিয়ে যাচ্ছি ততই এসব সড়ক দেশে বিস্মিত হচ্ছি। এটি কি ভারতের কোনো শহর নাকি মালয়েশিয়ার পুত্রজায়া কিংবা ইউরোপের কোনো শহর।     

ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের মূখ্যমন্ত্রী থাকাকালে এখানে ১২ বছরেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন। তার রাজনীতির হাতেখড়িও হয়েছে গুজরাটে। 

সড়ক বিভাজনে ফুল গাছের সঙ্গে রাস্তার ফুটপাথ ধরে রয়েছে অসংখ্য গাছ। এসব গাছে গাছে ছেয়ে গেছে পুরো গান্ধীনগর শহর। রাজধানীর শহরের কিলোমিটারের পর কিলোমিটার সড়ক জুড়ে রয়েছে শুধু ফুল গাছসহ নানা গাছ। ফুলে ফুলে সুশোভিত ১৭৭ বর্গকিলোমিটারের গুজরাটের রাজধানী শহরটি।   

শহরের বড় বড় ফুটপাথ ধরে নির্বিঘেœ হাঁটাচলার সুযোগ রয়েছে। কিছুদূর পরপর রয়েছে বসার জায়গা। একটি শহর যে কতটা পরিকল্পিত হতে পারে তা গান্ধীনগর না দেখলে কেউ বুঝবে না। 

আমাদের গন্তব্য গান্ধীনগরের মূল শহর। শহরে এসে হোঁচট খাবার দশা। একি শহর নাকি অন্য কিছু। গুজরাটের মতো গতিশীল একটি প্রদেশের রাজধানী শহরে এত কম মানুষ। ২০০১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী গান্ধীনগরের জনসংখ্যা এক লাখ ৯৫ হাজার ৮৯১ জন। এরপর গত প্রায় ১৩ বছরে এই সংখ্যা কত হয়েছে সেই হিসেব কারো কাছ থেকে পেলাম না। কত হবে বড় জোর এক লাখ বেড়েছে। 

মূল শহরটি ৩০টি সেক্টরে ভাগ করা। এর একটু দূরে আবাসিক এলাকা। এটি ইনফোসিটি নামে পরিচিত। আবাসিক বাসিন্দারের কেনাকাটা-খাওয়া দাওয়ার জন্য সিটিতে ঢুকতে রয়েছে প্রচুর রেস্টুরেন্ট, মার্কেট, হোটেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সবকিছু। সরকারি অফিস আদালতের জায়গাও নির্দিষ্ট করা। সরকারি অফিসগুলো শহরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। বিধান সভা, সচিবালয়, হাইকোর্টসহ সরকারের শীর্ষ অফিসগুলোর অবস্থান এক নম্বর সেক্টরে। এক নম্বর সেক্টরটি ১৯০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে। পুরো শহরটিই আসলে সাজানো-গোছানো পরিপাটি। 

শহরের প্রধান হাসপাতালটি অবস্থিত ১২ নম্বর সেক্টরে। যেখানে সহজেই যেকোনো সেক্টর যাওয়া সম্ভব। বার্ষিক মেলা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, এক্সিবিউশনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ৫০ একরের একটি বিশাল মাঠ রয়েছে শহরের কেন্দ্রস্থলে। 

সাবারমতি নদী তীরের এই শহরের জনসংখ্যার অর্ধেকই সরকারি-বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তার পরিবার পরিজন। বাকি অর্ধেকে সাধারণ মানুষের বসবাস। অধিবাসীদের হিসেবেই এখানে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ রয়েছে ১৫ নম্বর সেক্টরে। 

প্রস্তাবিত রেলস্টেশনের কাছেই রয়েছে আঞ্চলিক স্পোর্টস সেন্টার। শহরের বর্ধিতাংশে ৫০ দর্শকধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়াম করা হচ্ছে।  

গত বছর মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়া ঘুরে গান্ধীনগরের সঙ্গে কোনো পার্থক্য পেলাম না। পুত্রজায়া যেমন সবকিছুই ছবির মতো সাজানো গোছানো। এই শহরটিও তেমনি। ভারতের পরিকল্পিত শহরের একটি গান্ধীনগর। 

ভারতীয় নগরবিদ প্রকাশ ও মেওয়াদার পরিকল্পনাতেই গান্ধীনগরের গোড়াপত্তন। শহরটি দেশের সব রাজ্যের সঙ্গে রেল, সড়ক ও আকাশপথের যোগাযোগ রয়েছে।  

রাজধানী শহর হলেও এখানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। সেই সঙ্গে পর্যটকদের বিনোদনের জন্য রয়েছে আকসারধাম মন্দির, গিফট ওয়ান টাওয়ার, ইন্দোরা পার্ক, মহাত্মা মন্দির, বোটানিক্যাল গার্ডেন।