ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১১:০৬:১২ || ১ কার্তিক ১৪২৬
Advertisement
৭৮৬

বিপদজনক উড্ডয়নে রিজেন্ট, প্রাণহানির শঙ্কা

এভিয়েশন করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১১ মে ২০১৪   আপডেট: ৩ জুন ২০১৪


বিপদজনক উড্ডয়নে রিজেন্ট, প্রাণহানির শঙ্কা  

এভিয়েশন করেসপন্ডেন্ট   
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম        

ঢাকা: যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়া উড়োজাহাজ কোনো রকমে মেরামত করে যাত্রী পরিবহন করছে। দু’একদিন পর আবার তা নষ্ট, যথারীতি পুরনো কায়দা মেরামত হচ্ছে, পুনরায় অচল হচ্ছে। এভাবেই বিপদজনক উড়োজাহাজ নিয়ে দিনের পর দিন যাত্রী পরিবহন করে চলেছে বেসরকারি এয়ারলাইন্স রিজেন্ট। আর এতে শতশত যাত্রীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।  

বিগত এক মাসে বহুবার অচল হয়েছে রিজেন্টের উড়োজাহাজ। এর মধ্যে উড়োজাহাজের নিজস্ব রাডার (উড়োজাহাজের সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতেই রাডার ব্যবহৃত হয়) ছাড়া  সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে ফ্লাইট করা, চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে যাওয়ার পথে ৩০ জন যাত্রীর প্রাণ অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়া ছিল অন্যতম ঘটনা। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।  

বেবিচকের একটি সূত্র জানায়, মূলত পুরনো উড়োজাহাজ ব্যবহার করায় রিজেন্ট এয়ারওয়েজ বারবার যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়ছে। তাছাড়া পুরনো উড়োজাহাজে যেভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয় তাও করা হচ্ছে না। একারণেই বারবার অচল হচ্ছে রিজেন্টের উড়োজাহাজ।

সূত্র জানায়, ড্যাশ-৮ গত ১৫ দিন ধরেই কেবিন প্রেসারাইজেশন সমস্যা নিয়েই ড্যাশ ৮ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ড্যাশ ৮ উড়োজাহাজের হাইড্রোলিকে লিক দেখা দেয়। কোনো রকমে তা মেরামত করে শুক্রবার এটি দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অফিস বন্ধ থাকায় এই সমস্যা দেখার কেউ নেই। তাই সমস্যা নিয়েই উড়োজাহাজটি আবার আকাশে উড্ডয়ন করে।    

রিজেন্ট এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এমএ মোমেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলানিউজকে একটি উড়োজাহাজ অচল থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, উড়োজাহাজ অচল থাকলেও কোনো ফ্লাইটই বাতিল হয়নি। আন্তর্জাতিক রুটের শিডিউলে কিছুটা পরিবর্তন এনে ফ্লাইট ছাড়া হচ্ছে।  

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের  (বেবিচক) ফ্লাইট সেফটি পরিচালক উইং কমান্ডার নাজমুল আনাম বাংলানিউজকে বলেন, বেবিচকের অফিস বন্ধ থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখতে প্রকৌশলী পাঠিয়েছি। তিনি বলেন, উড়োজাহাজে কোনো ত্রুটি থাকলে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এর সঙ্গে যাত্রীদের প্রাণ জড়িত।  
 
রিজেন্টের বহরে বর্তমানে চারটি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ড্যাশ-৮ চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় এক মাসের বেশি সময় ধরে হ্যাঙ্গারে পড়ে আছে। বাকি দুটি বোয়িং ৭৩৭ এর একটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চট্টগ্রামে আটকা পড়েছে।    

এ অবস্থায় রিজেন্টের ফ্লাইট শিডিউল এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। অভ্যন্তরীণ রুটের ঢাকা-চট্টগ্রামের দুটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর বাইরে কোনো ফ্লাইটই সময় মতো ছাড়তে পারছে না। বারবার ফ্লাইটের সময় পরিবর্তন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রুটের কোনো ফ্লাইট বাতিল না হলেও প্রত্যেকটি ফ্লাইট কয়েক ঘন্টা বিলম্বে ছাড়ছে।  

১৩ এপ্রিল ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজের ত্রুটি না সারিয়ে পরদিন পুনরায় উড়োজাহাজটি দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেয় রিজেন্ট কর্তৃপক্ষ। বেলা ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কলকাতার উদ্দেশ্য উড়োজাহাজ ছেড়ে যায়। উড়োজাহাজ রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের কিছু পরেই যাত্রীদের কানে প্রচন্ড ব্যাথা শুরু হয়। এপর যাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এর ১০মিনিটের মধ্যে যাত্রীদের ক্ষোভের মুখে উড়োজাহাজটি ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন বৈমানিক।

২২ এপ্রিল সর্বশেষ মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ড্যাশ ৮ চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার পর যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়ে আবারো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে আসে। ওই উড়োজাহাজের ৩০ জন যাত্রী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। এ ঘটনার পর উড়োজাহাজটি গ্রাউন্ডেড করে বেবিচক।  

এর আগেও বোয়িং ৭৩৭ পাঁচ দিন ধরে অচল থাকায় এয়ারওয়েজের ফ্লাইট শিডিউলে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে যাত্রীদের বিমানবন্দরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।    

সূত্র জানায়, গত ২২ এপ্রিল মায়ানমার রিজেন্টের সিঙ্গাপুরগামী বোয়িং উড়োজাহাজটিকে তার দেশে প্রবেশের আগে ফিরিয়ে দেয়েছে। অকার্যকর ট্রাফিক কলুসন অ্যাভয়ড্যান্স সিস্টেম (টিক্যাস) নিয়ে মায়ানমারে ঢুকতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে এ ঘটনা ঘটে।

বেবিচকের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, রিজেন্টসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে অনেক ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু যতই ছাড় দেওয়া হয় তারা আরো ছাড় চায়। কিন্তু যাত্রীদের জীবনের ক্ষেত্রে তো ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।  

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫১ ঘন্টা, মে ২, ২০১৪   
আইএইচ/      


এই বিভাগের আরো খবর