ঢাকা, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৭:২০:৫১ || ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
Advertisement
৬৩৬

সংকটাপূর্ণ জেট এয়ার কিনতে চায় টাটা

ফ্লাইটনিউজ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮  


 
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে বিপদে পড়েছে ভারতের জনপ্রিয় বেসরকারি এয়ারলাইন্স জেট এয়ারওয়েজ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির অবমূল্যায়ন। এমনকি এয়ারলাইন্সটি কর্মীদের বেতন দিতেও সংগ্রাম করছে। এ কারণে জেট এয়ারওয়েজ নিলামের সম্মূখীন হতে যাচ্ছে। 
 
এ অবস্থায় ভারতের বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান টাটা এয়ারলাইন্সটি কিনে নিতে চাচ্ছে। যদিও টাকাকে পার্টনারশিপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তা প্রত্যাখান করে এয়ারলাইন্সের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে, ভারতীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।   
 
আর্থিক সংকট ও বাজেট এয়ারলাইন্সসমূহের কাছে মার খেয়ে ভারতে বিমান চলাচল খাতে দূরবস্থা নতুন কোনো সংবাদ নয়। আর্থিক সংকটে পড়ে ২০১২ সালে বেসরকারি এয়ারলাইন্স কিংফিশারের অপারেশন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভারতের রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্স এয়ার ইন্ডিয়া দীর্ঘদিন ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। এই মূহুর্তে এয়ার ইন্ডিয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি রুপি দেনায় জরাগ্রস্থ। তাছাড়া বাজেট এয়ারলাইন্সসমূহের কাছে নিয়মিতএয়ারলাইন্সগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না।     
 
জেট এয়ারওয়েজের সংকটাপূর্ণ অবস্থা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও জেট এয়ারওয়েজের মূখপাত্র বলছে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সব প্রতিবেদনই অনুমান নির্ভর। বর্তমানে জেট এয়ারওয়েজের চেয়ারম্যান নরেশ গয়াল ও তার পরিবার প্রতিষ্ঠানটির ৫১ শতাংশ শেয়ারের মালিক। 
 
২০১৩ সালে আবুধাবী ভিত্তিক ইতিহাদ এয়ারওয়েজ জেট এয়ারের ২৪ শতাংশ মালিকানা কিনে নেয়। চলতি বছরের শেষে নাগাদ ইতিহাদ এয়ারওয়েজ তার পুরো মালিকানা বিক্রি করে দিতে যাচ্ছে বলে কয়েকমাস আগে গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। 
 
বর্তমানে টাটা গ্রুপ সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সঙ্গে ভিস্তারা এবং মালয়েশিয়ান বাজেট ক্যারিয়ার এয়ারএশিয়া ভারত পরিচালনা করছে। 
 
সর্বোপরি, ভারতীয় বিমান চলাচল খাতের জন্য এটি কোনো সুসংবাদ নয়। ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, বিগত এক দশকে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী প্রবৃদ্ধি (কমপক্ষে ১৬ শতাংশ) সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধিকে মুনাফাহীন বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারলাইন্সসমূহের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং যাত্রীদের প্রাইস সেনসেটিভিটি এয়ারলাইন্সসমূহকে টিকেটের মূল্য বৃদ্ধি করতে বাধ্য করছে। 

এই বিভাগের আরো খবর