ঢাকা, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:৪৩:৫৭ || ৩০ কার্তিক ১৪২৬
Advertisement
৮৭৮

হোটেল ব্যবসা অর্ধেকে নেমেছে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫   আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫


ঢাকা: ‘হোটেল ব্যবসা অতটা ভালো নয়, কিংবা ততটা খারাপ নয়।’ চলমান হরতাল-অবরোধে দেশের হোটেল ব্যবসার অবস্থা সম্পর্কে এক বাক্যে এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের ম্যানেজার(পাবলিক রিলেশান) সালমান কবির।  

সালমান কবির জানান, সাধারণ সময়ে সোনারগাঁও হোটেলের ৯০ শতাংশ কক্ষই পূর্ণ থাকে। এখন তা ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে গত বছরের রাজননৈতিক ডামাডোলে হোটেলের মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কক্ষ পূর্ণ ছিল। এবারের অবস্থা অতটা খারাপ নয়। 

তিনি বলেন, সোনারগাঁও হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক বিদেশি অতিথিকে সশস্ত্র আনসার সদস্যের নিরাপত্তাসহ হোটেল বাসে নিয়ে আসছে। হোটেল থেকে দেশে ফেরার পথেও একই ধরনের নিরাপত্তা ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। যেহেতু অবরোধ ও হরতাল রয়েছে তাই বেশিরভাগ ব্যবসায়ী হোটেলেই ব্যবসায়িক সব ধরনের মিটিং ও কাজ সেরে নিচ্ছেন।   

গত ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সারাদেশে টানা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে। এর সঙ্গে চলছে হরতাল। টানা কর্মসূচির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ও ব্যবসায়ীরা অবস্থান করেন দেশের অভিজাত সব হোটেলসমূহে।  

আর তাই বাংলানিউজ অভিজাত এসব হোটেলসমূহের ব্যবসার বাণিজ্যের খবর নিয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশই হোটেলই জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ভালো ব্যবসা করে থাকে। ঠিক এই সময়েই অচলাবস্থা চলছে। এতে বেশিরভাগ হোটেলের অতিথি সংখ্যা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।  

এমনও হচ্ছে যেসব ব্যবসায়ী হয়তো আগে হংকং থেকে বাংলাদেশে আসতেন, দেশের ব্যবসায়ীরাই উল্টো হংকংয়ে যাচ্ছেন।  

রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেল কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের হোটেলের ৫০ শতাংশ কক্ষ পূর্ণ রয়েছে। অথচ এই সময়ে হোটেলের ৮০ শতাংশের বেশি কক্ষ পূর্ণ থাকে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে অনেক বুকিং ছিল। শেষ মুহূর্তে এসব রুম বুকিং বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এমনকি হোটেলের বল রুমও খালি থাকছে। এভাবে চলতে থাকলে তাদের টার্গেটের ৬০ শতাংশও পূরণ হবে না।  

হোটেল ব্যবসার হাল-হকিকত নিয়ে কথা হয় রাজধানীর নতুন পাঁচ তারকা হোটেল ‘আমারই’ হোটেলের পরিচালক (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) সৈয়দ ইয়ামীনুল হকের সঙ্গে। 

তিনি বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরে তারা যাত্রা শুরু করেছেন। শুরুটা ভালোই ছিল। যেভাবে চলছিল তা বজায় থাকলে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে হোটেলের ৪৫ শতাংশ কক্ষ পূর্ণ থাকতো। কিন্তু এখন তা নেই। 

হোটেল সারিনার ব্যবসাও অর্ধেকে নেমেছে বলে জানিয়েছেন হোটেলটির ম্যানেজার (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) ওয়ালিদ শামীম।      

তিনি জানান, হোটেলের ৪০ শতাংশ কক্ষ পূর্ণ থাকছে। তবে এই সংখ্যা সাধারণ সময়ে ৭০/৮০ শতাংশ থাকে।  কাঙ্খিত হারে ব্যবসা না হওয়ায় নতুন বছরের শুরুতে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, কিংবা ইনক্রিমেন্ট দেওয়াটা কঠিন হয়ে যাবে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৫