ঢাকা, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:০২:৫১ || ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
Advertisement
১১৯৬

২২০০ টন কার্গো নিয়ে বিপদে কর্তৃপক্ষ

এভিয়েশন করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১১ মে ২০১৬  


ঢাকা: হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকা প্রায় ২২০০ টন কার্গো পণ্য নিয়ে বিমান ও কাস্টমসের মধ্যে টানাহেঁচড়া চলছে। আমদানি করা ওই সব পণ্যের সঙ্গে এয়ারওয়ে বিলের সমন্বয় না থাকায় তা খালাস বা নিলামে তোলা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে শাহজালালের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি সরকারের পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয়ের নজরে এনেছে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন। কার্গো ভিলেজের বাইরে রানওয়ে সংলগ্ন উন্মুক্ত স্থানে প্যাকেটবন্দি অবস্থায় বেওয়ারিশ পড়ে থাকা ওই সব পণ্যের মধ্যে কী আছে তা নিয়েই যত অস্বস্তি ব্রিটেনের। তারা এটাকে নিরাপত্তার চরম হুমকি হিসেবে দেখছে। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনায় নিরাপত্তার স্বার্থে পণ্যগুলোর দ্রুত খালাস বা নিলাম চেয়েছে ব্রিটেন। অন্যথায় ব্রিটেন কার্গো পরিবহনের জন্য স্বতন্ত্র চ্যানেল নির্মাণের অনুরোধ করেছে দেশটি। সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা কার্গো নিয়ে ব্রিটেনের অস্বস্তির বিষয়টি স্বীকার করেন। বিষয়টির দ্রুত কিংবা অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার জন্য সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দিকনির্দেশনা চাওয়া হয়েছে জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, বিমান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সরকারি এক কর্মকর্তা বলেন, পণ্যের অব্যবস্থাপনার জন্য বিমান ও কাস্টমস একে অন্যকে দোষারোপ করছে। অনেক পণ্যের চালানের সঙ্গে এয়ারওয়ে বিল মিলছে না। বিষয়টি নিয়ে যত সময় যাচ্ছে জটিলতা বাড়ছে জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস ও নিলাম শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, পণ্য আমদানির ১৫ দিনের মধ্যে উপযুক্ত শুল্ক আদায় সাপেক্ষে তা খালাস হওয়ার কথা। এর ব্যতিক্রম হলে বা আমদানিকারক পণ্য না নিলে তার চালানের সঙ্গে এয়ারওয়ে বিলের সমন্বয় করে কাস্টমসকে তা বুঝিয়ে দেয়ার দায়িত্ব বিমানের। বিমান কাজটি করছে না বলেই পণ্য জমে এখন স্তূপে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার জন্য কার্গো পণ্যের ওই স্তূপ এখন গলার কাঁটা হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা। এদিকে বিমান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে বলেন, বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচ করে কয়েক মাস আগে কার্গো ভিলেজে পণ্য রাখার জন্য সেলফ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু ওই সব সেলফের পাঠাতন না থাকায় বে-এরিয়াতে উন্মুক্ত স্থানে পণ্য রাখা হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টির এই মৌসুমে অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করেন ওই কর্মকর্তা। বাংলাদেশ বিমান ওই পণ্যগুলোর রক্ষক বা কাস্টডিয়ান উল্লেখ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস, গোয়েন্দা ও নিলাম শাখার এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, চরম বিশৃঙ্খল অবস্থায় বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ ও তার বাইরে থাকা হাজার টন পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিমানকে স্বপ্রণোদিত হয়ে তাগিদ দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব নজিবুর রহমান এলাকা পরিদর্শন করে এ নিয়ে বিমানের সঙ্গে আলোচনা এবং এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের নিলাম কার্যক্রম দ্রুততর করতে একটি ওয়ার্কি গ্রুপ গঠন করে দিয়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (শুল্ক ও ভ্যাট) সুলতান মো. ইকবালের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের ওই গ্রুপ গত ২৫শে এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করছে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান নিজেই। এনবিআর কর্মকর্তারা যা বললেন- বিমানবন্দরের চরম অব্যবস্থাপনায় পড়ে থাকা কার্গো পণ্যের খালাস বা নিলামের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান এ সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের আহ্বায়কের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তার পরামর্শ মতে আহ্বায়ক সুলতান মো. ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। নিজ দপ্তরে মঙ্গলবার তিনি বলেন, আজই আমরা এ সংক্রান্ত তৃতীয় বৈঠক করে ফিরেছি। আগের দুটি বৈঠকে বিমানের কাছে যেসব পণ্য দীর্ঘ দিন ধরে পড়ে আছে তার তালিকা চেয়েছি। আমদানি করা কার্গো পণ্যের চালানের সঙ্গে এয়ারওয়ে বিলের সমন্বয় করে বিমান আমাদের যেসব পণ্য বুঝিয়ে দেবে আমরা তাই নিলামে তুলবো। যে সব পণ্যের চালান ও এয়ারওয়ে মিলের সমন্বয় হবে না তা নিলামে তুলতে হলে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করতে হবে। সেখানেও বিমানকেই উদ্যোগী হতে হবে। তারা সক্রিয় না হলে কার্গো পণ্যের ওই জটিলতা নিষ্পত্তি হবে না বলে মন্তব্য করেন এনবিআর’র ওই সদস্য। সূত্র: মানবজমিন